সমাজে প্রচলিত কিছু শিরক-কুফর (পর্ব: ২)

৬. আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করা । আল্লাহ ছাড়া কোনো দৃশ্য বা অদৃশ্য, জীবিত বা মৃত প্রাণি বা বস্তকেঃ যেমন মানুষ, জিন, ফিরিশতা, মাযার, কবর, পাথর, গাছ ইত্যাদিকে সাজদা করা, অলৌকিক সাহায্য, ত্রাণ, দীর্ঘায়ু, রোগমুক্তি, বিপদমুক্তি, সন্তান ইত্যাদি প্রার্থনা করা । তাদের নামে মানত, কুরবানি বা উৎসর্গ (sacrifice) করা শিরক । আল্লাহ ছাড়া কারো জন্যজীবিত বা মৃত, বিমূর্ত, মূর্ত, প্রস্তরায়িত বা সমাধিত, নবী, ওলী, ফিরিশতা বা যে কোনো নামে বা প্রকারে কারো জন্য এগুলি করা হলে তা শিরক। মূর্তিতে ভক্তিভরে ফলদান, মূর্তির সামনে নীরবে বা ভক্তিভরে দাঁড়ানো ইত্যাদি এ জাতীয় শিরকী বা শিরকতুল্য কর্ম।

৭. আল্লাহর জন্য কোনো ইবাদত করে সে ইবাদত দ্বারা আল্লাহর সাথে অন্য কারো সম্মান প্রদর্শন বা সন্তুষ্টি কামনাও শিরক । যেমন আল্লাহর জন্য সাজদা করা তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে সামনে রেখে সাজদা করা, যেন আল্লাহর সাজদার সাথে সাথে তাকেও সম্মান করা হয়ে যায় । অথবা আল্লাহর জন্য মানত করে কোনো জীবিত বা মৃত ওলী, ফিরিশতা, জিন, কবর, মাযার, পাথর, গাছ ইত্যাদিকে মানতের সাথে সংযুক্ত করা ।

৮. আল্লাহ, তার রাসূল বা তার দ্বীনের মৌলিক কোনো বিষয় অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, অবজ্ঞা করা বা অপছন্দ করা কুফর ৷ এ জাতীয় প্রচলিত কুফরীর মধ্যে অন্যতম আল্লাহর বিভিন্ন বিধান, যেমন নামায, পর্দা, বিভিন্ন
অপরাধের শাস্তি, ইসলামী আইন ইত্যাদির প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ বা এগুলিকে বর্তমানে অচল বা মধ্যযুগীয় মনে করা ।

৯. ইসলামকে শুধু ব্যক্তি জীবনে পালন করতে হবে এবং সমাজ, বিচার, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইসলাম চলবে না বলে মনে করা, ইসলামের কোনো বিধান বা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কোনো সুন্নাতের প্রতি অবজ্ঞা বা ঘৃণা প্রকাশ করা, ওয়াজ মাহফিল, যিকর, তিলাওয়াত, নামায, মাদরাসা, মসজিদ, বোরকা, পর্দা ইত্যাদির প্রতি অবজ্ঞা বা ঘৃণা অনুভব করা, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বা পূর্ববর্তী অন্য কোনো নবী রাসূলের প্রতি সামান্যতম অবজ্ঞা প্রকাশ করা ।

১০. মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সর্বশেষ নবী হওয়ার বিষয়ে সামান্যতম সন্দেহ পোষণ করা, তার পরে কারো কাছে কোনো প্রকার নুবুওয়াত বা ওহী এসেছে বা আসা সম্ভব বলে বিশ্বাস করা ।

১১. সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিবারকি, রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর শেখানো নিয়ম, পদ্ধতি, রীতি, নীতি, আদর্শ, আইন ইত্যাদি ছাড়া অন্য কোনো নিয়ম, নীতি, মতবাদ বা আদর্শ বেশী কার্যকর, উপকারী বা উপযোগী বলে মনে করা । যুগের প্রয়োজনে তার শেখানো পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করা ।

১২. যে কোনো প্রকার কুফরীর প্রতি সন্তুষ্ট থাকাও কুফরী | উপরে বর্ণিত কোন কুফর বা শিরকে লিপ্ত মানুষকে মুসলিম মনে করা বা তাদের আকীদার প্রতি সন্তষ্ট থাকাও কুফরী ৷
যেমন যারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে সর্বশেষ নবী বলে মানেনা বা তার পরে কোনো নবী থাকতে পারে বা ওহী আসতে পারে বলে বিশ্বাস করে তাদেরকে কাফির মনে না করা কুফরী ।
অনুরূপভাবে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মকে সঠিক বা পারলৌকিক মুক্তির মাধ্যম বলে মনে করা, সব ধর্মই ঠিক মনে করা কুফর | অন্যান্য ধর্মের শিরক বা কুফরমূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা,
সেগুলির প্রতি মনের মধ্যে ঘৃণাবোধ না থাকা, অন্য ধর্মাবলম্বীগণকে আন্তরিক বন্ধ হিসেবে গ্রহণ করা, তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের অনুকরণ করা, ক্রিসমাস (বড়দিন), পূজা ইত্যাদিতে আনন্দ উদযাপন করা ইত্যাদি বর্তমান যুগে অতি প্রচলিত কুফরী কর্ম ও বিশ্বাসের অন্তর্ভূক্ত ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *