সমাজে প্রচলিত কিছু শিরক-কুফর (পর্ব: ১)

১. তাওহীদ বা রিসালাতের কোনো বিষয় অবিশ্বাস করা । যেমন আল্লাহর একত্তে বিশ্বাস না করা । মুহাম্মাদ( সাঃ)-কে তাঁর বান্দা, দাস ও মানুষ রূপে বিশ্বাস না করা । অথবা তাঁকে আল্লাহর অবতার, আল্লাহ তাঁর সাথে মিশে গিয়েছেন, ‘যে আল্লাহ সে-ই রাসূল’ ইত্যাদি মনে করা । অথবা তাঁকে আল্লাহর নবী ও রাসূল রূপে না মানা । তাকে কোনো বিশেষ যুগ, জাতি বা দেশের নবী মনে করা । তাঁর কোনো কথা বা শিক্ষাকে ভুল বা অচল মনে করা । আল্লাহর নৈকট্য, সন্তুষ্টি ও মুক্তি পাওয়ার জন্য তাঁর শিক্ষার অতিরিক্ত কোনো শিক্ষা, মত বা পথ আছে,

থাকতে পারে বা প্রয়োজন-হতে পারে বলে মনে করা ।

২. আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ এ বিশ্বের প্রতিপালন বা পরিচালনায় শরীক আছেন বলে বিশ্বাস করা । অন্য কোনো সৃষ্টি, প্রাণি, ফিরিশতা, জীবিত বা মৃত মানুষ, নবী, ওলী সৃষ্টি, পরিচালনা, অদৃশ্য জ্ঞান, অদৃশ্য সাহায্য, রিযিক দান, জীবন দান, সুস্থতা বা রোগব্যাধি দান, বৃষ্টি দান, বরকত দান, অনাবৃষ্টি প্রদান, অমঙ্গল প্রদান ইত্যাদি কোনো প্রকার কল্যাণ বা অকল্যাণের কোনো ক্ষমতা রাখেন বা আল্লাহ কাউকে অনুরূপ ক্ষমতা দিয়ে রেখেছেন বলে বিশ্বাস করা ।

৩. আল্লাহ ছাড়া কোনো নবী, ওলী, জিন বা ফিরিশতা সকল প্রকার অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী, গায়েব বা দূরের ডাক শুনতে পারেন, সাড়া দিতে পারেন, সদাসর্বদা সর্বত্র বিরাজমান বা হাযির নাযির বলে বিশ্বাস করা ।

৪. রাসূলললাহ (সাঃ), ঈসা (আ) বা অন্য কাউকে আল্লাহর যাত (সত্তা) বা সিফাত (বিশেষণ) এর অংশ, আল্লাহর সত্তা, বিশেষণ বা নূর থেকে ( same substance/Light From Light) সৃষ্ট বা জন্প্রাপ্ত বলে বিশ্বাস করা ।

৫. অশুভ বা অযাত্রা বিশ্বাস করা । কোনো বস্তু, প্রাণি, কর্ম, বার, তিথি, মাস ইত্যাদিকে অশুভ, অমঙ্গল বা অযাত্রা বলে মনে করা স্পষ্ট শিরক | আমাদের দেশে অনেক মুসলিমও ‘কী করলে কী হয়’ জাতীয় অনেক বিষয় লিখেন বা বিশ্বাস করেন । এগুলি সবই শিরক । জন্মদিনে নখ-চুল কাটা, ভাঙা আয়নায় মুখ দেখা, রাতে নখ কাটা, পিছন থেকে ডাকা, কাক ডাকা ইত্যাদি অগণিত বিষয়কে অমঙ্গল বা অশুভ মনে করা হয়, যা নিতান্তই কুসংস্কার, মিথ্যা ও শিরকী বিশ্বাস । পাপে অমঙ্গল ও পুণ্যে কল্যাণ । সৃষ্টির সেবায় সকল মঙ্গল নিহিত ও সৃষ্টির ক্ষতি করা বা অধিকার নষ্ট করার মধ্যে নিহিত সকল অমঙ্গল । এছাড়া অমঙ্গল বা অশুভ বলে কিছুই নেই ।

৬. আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করা । আল্লাহ ছাড়া কোনো দৃশ্য বা অদৃশ্য, জীবিত বা মৃত প্রাণি বা বস্তকেঃ যেমন মানুষ, জিন, ফিরিশতা, মাযার, কবর, পাথর, গাছ ইত্যাদিকে সাজদা করা, অলৌকিক সাহায্য, ত্রাণ, দীর্ঘায়ু, রোগমুক্তি, বিপদমুক্তি, সন্তান ইত্যাদি প্রার্থনা করা । তাদের নামে মানত, কুরবানি বা উৎসর্গ (sacrifice) করা শিরক । আল্লাহ ছাড়া কারো জন্যজীবিত বা মৃত, বিমূর্ত, মূর্ত, প্রস্তরায়িত বা সমাধিত, নবী, ওলী, ফিরিশতা বা যে কোনো নামে বা প্রকারে কারো জন্য এগুলি করা হলে তা শিরক। মূর্তিতে ভক্তিভরে ফলদান, মূর্তির সামনে নীরবে বা ভক্তিভরে দাঁড়ানো ইত্যাদি এ জাতীয় শিরকী বা শিরকতুল্য কর্ম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *